
দেশে ঈদকে ঘিরে বাড়তে থাকা সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানিকে রাষ্ট্রের পুঞ্জীভূত ব্যর্থতার ফল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ। সোমবার (২৫ মে) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঈদ সাধারণ মানুষের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসার কথা থাকলেও বাংলাদেশে এর চিত্র ভিন্ন। ঈদের সময় এলেই মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়, প্রিয়জন হারানোর শঙ্কা দেখা দেয়। প্রতি বছরই ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা একটি বড় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ঈদ যেন আমাদের জন্য মৃত্যুর মিছিল নিয়ে আসে।” তার মতে, এসব দুর্ঘটনা শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল তদারকি এবং দায়িত্বহীনতার ফল। এ কারণে সাধারণ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ অভিযোগ করেন, প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, গত ঈদুল ফিতরের সময়ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। তখনও নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
তিনি সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রডবোঝাই একটি ট্রাকে যাত্রী পরিবহন কীভাবে সম্ভব হলো, তা বড় প্রশ্ন। তার দাবি, ট্রাকটি রাজধানী থেকে বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটিকে থামায়নি। তিনি ইঙ্গিত দেন, হয়তো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনাকে তিনি কেবল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। বরং এটিকে “পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। তার মতে, যখন নিয়মিতভাবে একই ধরনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে মানুষ মারা যায়, তখন সেটিকে দুর্ঘটনা বলা যথাযথ নয়।
বিবৃতিতে তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর কঠোর বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নইলে আনন্দের উৎসব বারবার শোকের ঘটনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।