
দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে জেট ফুয়েলের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়েছে। গত শনিবার (২৩ মে) মধ্যরাত থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিইআরসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দেশের বিমান পরিবহন খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১ দশমিক ৩৩৮৫ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ০৮২৩ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ মে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ২২ টাকা ৩৫ পয়সা কমানো হয়েছিল। তবে তারও আগে ৭ এপ্রিল প্রায় ২৫ টাকা বাড়ানো হয়। একইভাবে গত ২৪ মার্চ এক দফায় প্রায় ৯০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ফলে চলতি বছরে একাধিকবার জেট ফুয়েলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, ২৩ মে কমিশনে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ জ্বালানির প্লাটস রেট, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং দেশে ডিজেলের বিদ্যমান মূল্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেট ফুয়েলের দাম কমায় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে যাত্রীভাড়ার ওপরও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে।
বিমান খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই অস্থির। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।