
অর্থসংকটের কারণে অনার্স শেষ বর্ষে ভর্তি অনিশ্চয়তায় পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তার ব্যক্তিগত সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।
মো. তরিকুল ইসলাম তারিক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি আবারও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। রোববার (২৫ মে) ছিল তার অনার্স শেষ বর্ষে ভর্তির শেষ দিন। তবে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি ফি জোগাড় করতে পারেননি তিনি। ফলে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
জানা গেছে, সংকটময় পরিস্থিতিতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নিজ এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ছাত্রদল নেতা তারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানার পর তারিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং বিভিন্নভাবে তথ্য যাচাই করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। পরে তিনি দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠিয়ে দেন, যাতে শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভর্তি সম্পন্ন করতে পারেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই শিক্ষার্থী বলেন, টাকার অভাবে তার পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তারিক ভাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাকে নতুন করে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। অতীতেও তার মানবিক কাজের কথা শুনেছিলেন বলেই তিনি সহযোগিতার জন্য তারিকের কাছে যান বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, “রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শুধুমাত্র অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না। তাই ব্যক্তিগতভাবে সংকটে থাকলেও তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবা করা এবং তাদের যেকোনো সংকটে পাশে থাকা। তার মতে, ছাত্ররাজনীতি শুধু আন্দোলন বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক দায়িত্ব পালনের জায়গাও তৈরি করা উচিত।
তারিকের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন মানবিক কাজ ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বাঁচানোর পাশাপাশি এটি দায়িত্বশীল ও মানবিক ছাত্রনেতৃত্বেরও একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।