
আফ্রিকার দেশ চাদ-এর পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি পানির কূপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুতই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার ওয়াদি ফিরা প্রদেশ-এর গুয়েরেদা উপপ্রশাসনিক অঞ্চলে। সংঘর্ষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একজন সরকারি প্রতিনিধি জানান, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় স্থানীয় একটি পানির কূপের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ থেকে। ওই পানির উৎসটি স্থানীয় কৃষক ও যাযাবর পশুপালকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ঘটনার পরপরই রবিবার সরকার উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠায়। এতে কয়েকজন মন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
চাদের উপপ্রধানমন্ত্রী ও আঞ্চলিক প্রশাসন বিষয়ক কর্মকর্তা লিমানে মাহামাত রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
চাদ একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, যার উত্তরে লিবিয়া, পূর্বে সুদান, দক্ষিণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়া এবং পশ্চিমে নাইজার অবস্থিত।
দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর এন’জামেনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব চাদে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষক ও যাযাবর পশুপালকদের মধ্যে ভূমি ও পানির উৎস নিয়ে সংঘাত চলে আসছে। এই অঞ্চলে পানির উৎস অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রতিযোগিতা অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নেয়।
এর পাশাপাশি প্রতিবেশী সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে শরণার্থীদের প্রবাহও এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কৃষি জমি ও চারণভূমি নিয়ে সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় দুই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পানির মতো মৌলিক সম্পদ নিয়ে বিরোধ শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
সামগ্রিকভাবে, চাদের এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ আবারও দেখিয়ে দিল—সম্পদ সংকট ও সামাজিক চাপ কীভাবে দ্রুত ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।