
সরকারি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও ভার্চুয়াল বৈঠকের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জনগণের সেবক হয়েও অনেক কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রম থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।
একুশে টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের একটি অনলাইন কর্মশালায় অংশ নিয়ে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের সম্মানী গ্রহণ করেছেন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা বা বড় অঙ্কের সরকারি কেনাকাটার প্রাক্কলন কমিটির সভায় অংশগ্রহণের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী নির্ধারিত রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের অতিরিক্ত সুবিধাভোগী সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শুধু প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। সমালোচকদের দাবি, এই অর্থের বড় অংশ সুবিধাভোগী হয়েছেন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা, অথচ নিম্নস্তরের কর্মচারীরা এসব সুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত।
অভিযোগ আরও রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনো সভা বা কর্মশালা আয়োজন না করেও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে করোনা মহামারির সময় বিআইডিবির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া কর্মশালা ও খাবারের বিল দেখিয়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে, যা পরে অডিট প্রতিবেদনে ধরা পড়ে।
বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছে। তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও সেমিনার খাতে ব্যয় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, নিজেদের সুবিধার্থে তৈরি করা এসব বিধান ক্ষমতার অপব্যবহারের সামিল এবং এটি জনগণের ওপর অপ্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে প্রশাসনিক খাতে অপচয় কমানো কঠিন হবে।