
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোলেও তা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও এখনই চুক্তি স্বাক্ষরের মতো অবস্থানে পৌঁছায়নি দুই দেশ।
তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে কিছু মৌলিক বিষয়ে সমঝোতা তৈরি হলেও এর অর্থ এই নয় যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি খুব কাছাকাছি। বরং এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার পর পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয় নির্ধারণে অন্তত ৬০ দিনের একটি সময়সীমা লাগতে পারে।
ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকটের কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তার অঙ্গীকার রক্ষা করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন পক্ষ এই আলোচনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বাঘাইয়ের মতে, ইসরায়েল এই আলোচনাকে ব্যাহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং চুক্তি বানচাল করার জন্য নানা উদ্যোগ নিতে পারে।
তিনি বলেন, “জায়নবাদীরা চুক্তি নষ্ট করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” তার মতে, গণমাধ্যমে যেসব বক্তব্য প্রতিফলিত হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাঘাই আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক চাপ, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বিভিন্ন দেশের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পেছনে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতার ভূমিকা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব দেশের প্রচেষ্টায় আলোচনায় কিছু অগ্রগতি এসেছে বলে দাবি করেন ইরানের এই মুখপাত্র।
তিনি জানান, আলোচনার বর্তমান ধাপে পারমাণবিক ইস্যুর চেয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি ধারা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধ ও শত্রুতা বন্ধ করা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তেহরান কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও জোর দিয়ে জানান বাঘাই।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষকে জবাব দেওয়ার সময় ও পদ্ধতি ইরান নিজেই নির্ধারণ করে এবং অতীতেও তা করেছে। ভবিষ্যতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু, আঞ্চলিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনা চলমান থাকলেও আস্থা সংকট এবং বহুমাত্রিক রাজনৈতিক চাপের কারণে সম্ভাব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।