
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনের পর আহত ও শহীদ পরিবারের সহায়তায় গঠিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এখন তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে। এক বছর আট মাস না যেতেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফাউন্ডেশনটি গঠিত হয় ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট। উদ্দেশ্য ছিল গণ-আন্দোলনে নিহত ৮৩৪ শহীদ পরিবারের পাশাপাশি ১৪ হাজারের বেশি আহত ব্যক্তিকে আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া। শুরুতে সরকার মোট ৩৩৭ কোটি টাকার তহবিল নির্ধারণ করলেও বাস্তবে ফাউন্ডেশনটি প্রথম ধাপে মাত্র ১০০ কোটি টাকা হাতে পায়।
ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এরপর থেকে আর কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত সহায়তা কার্যক্রম ধীরে ধীরে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামাল আকবর জানান, তারা ২০২৪ সালের পর থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন। মোট ১৫ বার আবেদন, চিঠি ও সরাসরি সাক্ষাৎ করেও বাকি অর্থ পাওয়া যায়নি।
তার ভাষায়, প্রতিশ্রুত ২৩৭ কোটি টাকার বাকি অংশ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত সংকটে পড়েছে। বর্তমানে আহতদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি এখনো কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি।
এছাড়া কর্মীদের মাসিক বেতন পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সিইও আরও জানান, বাজেট বরাদ্দ কম থাকা এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন জটিলতার কারণে অর্থ ছাড় পেতে দেরি হচ্ছে। তবে সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হলে দ্রুত বাকি তহবিল ছাড় করা জরুরি।
এদিকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের সংসদ সদস্যদের কাছে এক মাসের বেতন অনুদান হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আপাতত জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখা যায়।
আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুত সহায়তা না পেয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান বলেন, সরকার যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং পরিবারগুলো নিয়মিত সহায়তা পায়।
অন্যদিকে শহীদ মো. সোহেলের বোন নুপুর আক্তার জানান, আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা এখন খুবই প্রয়োজন। সহায়তা না পেলে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি মানবিক ও সংবেদনশীল প্রকল্পের অর্থায়নে ধারাবাহিকতা না থাকলে এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত বাজেট অনুমোদন ও স্বচ্ছ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, গণ-আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় গঠিত এই ফাউন্ডেশন এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। দ্রুত সমাধান না এলে এর কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।