
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ৩০ মণ ওজনের এক বিশাল ষাঁড় গরু ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা রঙের এই দানবাকৃতি গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজাবাবু’। স্থানীয়রা বলছেন, এর আগে এলাকায় এত বড় গরু খুব একটা দেখা যায়নি।
উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের রাজ্জাকপুর গ্রামের একটি খামারে গরুটিকে বড় করেছেন খামারি আলী আকবর বাহার। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘গরীব উল্লাহ মৎস্য ও গবাদি পশু খামার’। প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ যত্ন ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন।
খামারি জানান, ‘রাজাবাবু’ পালনে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক, হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়নি। বরং দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, কাঁচা ঘাস এবং পুষ্টিকর দানাদার খাবার খাইয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত যত্ন ও পরিচর্যার ফলে গরুটির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুটে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টি এখন পুরো এলাকার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ খামারে এসে ‘রাজাবাবু’কে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন। অনেকেই ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ ভবিষ্যৎ কোরবানির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
খামারি আলী আকবর বাহার জানান, গরুটিকে তিনি নিজের সন্তানের মতো করে লালন করেছেন। তার ভাষায়, এত বড় পশু হাটে নেওয়া কষ্টকর, তাই তিনি বাড়ি থেকেই বিক্রির পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, গরুটির জন্য ইতোমধ্যে ১২ লাখ টাকা দাম হাঁকা হয়েছে, তবে প্রকৃত ক্রেতা পেলে কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে রাজি আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল হোসেন নাঈম বলেন, চাটখিল এলাকায় এর আগে এমন বিশাল গরু দেখা যায়নি। ‘রাজাবাবু’কে ঘিরে এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গরুটির নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তদারকি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি বড় হওয়ায় এটি সুস্থ ও কোরবানির উপযোগী বলে তারা মত দিয়েছেন।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের গরুর চাহিদা সাধারণত বৃদ্ধি পায়। সেই ধারাবাহিকতায় ‘রাজাবাবু’ এখন নোয়াখালীর অন্যতম আলোচিত পশুতে