
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন এবং কার্যত আত্মগোপনে রয়েছেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ফলে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে।
রোববার (২৪ মে) সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান এখন একটি জটিল কুরিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা কিছু ইরানি কর্মকর্তাও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের মতে, সরকারি কাঠামোর ভেতরে তথ্য আদান-প্রদান জটিল হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনাও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো প্রস্তাব বা চুক্তির খসড়া পাঠায়, সেটি সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে এবং তার উত্তর ফিরে আসতে অনেক সময় লেগে যায়। কারণ, নিরাপত্তার কারণে তার যোগাযোগ পথ সীমিত ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনির অবস্থান বা ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, বর্তমান খসড়া চুক্তির কিছু কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার সম্মতি পাওয়া গেছে। একই সময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে আছেন। অনেকেই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। এমনকি নিজেদের মধ্যেও সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন তারা।
এক মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই জটিল হয়ে গেছে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে। কুরিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো এবং ফেরত আসা প্রতিক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় নীতিনির্ধারণে বিলম্ব ঘটছে।
সূত্রগুলো দাবি করছে, মোজতবা খামেনি তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন, যেখানে আলোচনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোন বিষয় আলোচনাযোগ্য এবং কোনটি নয়—তা আগে থেকেই নির্ধারিত।
এর ফলে ইরানের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থাকা কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকেই কাজ করছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সীমিত যোগাযোগ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য সমঝোতা প্রক্রিয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের নেতৃত্বকে ঘিরে এমন গোপনীয়তার খবর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে বিষয়টি ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।