
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিনসহ আশপাশের সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একইসঙ্গে কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টিপাত বেশি হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু–একটি জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ওই চারটি বিভাগ—রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট—এর কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি দুর্ভোগের সম্ভাবনাও রয়েছে।
ঈদের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও একই ধরনের আবহাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সময়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশেষভাবে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে ঈদের দিন ভ্রমণ ও ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
তাপমাত্রা নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তারা জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এতে দিনে কিছুটা স্বস্তি মিললেও আর্দ্রতা ও বৃষ্টির কারণে গরম অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এ সময়ের আবহাওয়াকে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবকালীন পরিবর্তনশীল সময় হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। ফলে হঠাৎ করে আকাশ মেঘলা হওয়া, দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায়।
এদিকে ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবং কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঝড়-বৃষ্টি হলে সড়ক ও নৌপথে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপডেট পূর্বাভাস জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে চলাচল পরিকল্পনা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের দিন দেশের আবহাওয়া থাকবে পরিবর্তনশীল। কোথাও বৃষ্টি, কোথাও দমকা হাওয়া এবং কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।