
পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রোববার রাত থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হজযাত্রী তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার উদ্দেশে রওনা হন। ইসলামি পরিভাষায় মিনাকে “তাঁবুর নগরী” বলা হয়, যেখানে হজের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর সঙ্গে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রীরাও যুক্ত হয়েছেন। ফলে এবারের হজে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হজযাত্রীদের নিরাপদে মিনায় স্থানান্তরের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মিনার তাঁবুগুলোতে থাকা, খাবার, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি তাঁবু এলাকায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে হাজিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে ভিড় বা বিশৃঙ্খলা না হয়।
হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিকভাবে হাজিদের সেবা দিচ্ছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, “ইয়াওমুত তারবিয়া” দিন থেকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এই দিনে হাজিরা মিনায় অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান। পরদিন ৯ জিলহজ তারা আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হবেন, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
আরাফাতে অবস্থান হজের মূল রুকন। সেখানে হাজিরা একত্রে নামাজ আদায় করেন এবং দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর সূর্যাস্তের পর তারা মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সেখানে রাত কাটাবেন।
পরবর্তী ধাপে ১০ জিলহজ হাজিরা মিনায় ফিরে কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি এবং চুল কাটার মাধ্যমে হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকদিনের কার্যক্রম শেষে হজ সম্পূর্ণ হবে।
এদিকে সৌদি প্রশাসন জানিয়েছে, হাজিদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবহন, চিকিৎসা এবং জরুরি সেবার জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে।
বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে হজকে কেন্দ্র করে এবারও সৌদি আরব কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হচ্ছে।
হজযাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ধর্মীয় অনুভূতি ও উৎসাহ দেখা গেছে। অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই পবিত্র সফরে অংশ নিতে পেরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তালবিয়া পাঠ, ইবাদত ও মিনায় অবস্থান—সব মিলিয়ে পুরো এলাকা এখন আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত।
সৌদি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এবারের হজ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে এবং সব হাজি নিরাপদে তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।