
রাজধানীর মেট্রোরেলে যাত্রীসেবাকে আরও জনবান্ধব করতে নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এখন থেকে সিনিয়র সিটিজেন এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীরা একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাচ্ছেন।
এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যাত্রীরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে, যাতে সমাজের বিশেষ শ্রেণির মানুষদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হয়।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে উপস্থিত থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে মেট্রোরেলে যাত্রীসেবায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমটিসিএলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সিনিয়র সিটিজেনরা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শনের মাধ্যমে বয়স যাচাই করে এই ভাড়া ছাড় পাবেন। অর্থাৎ, যাত্রার সময় এনআইডি দেখালেই তারা একক টিকিটে ২৫ শতাংশ কম ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ইস্যুকৃত ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে একই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এই কার্ডটি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভাড়া ছাড় পাওয়ার জন্য প্রযোজ্য হবে।
এই উদ্যোগের ফলে রাজধানীর মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত চিকিৎসা, কর্মস্থল বা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
মেট্রোরেল ইতোমধ্যেই রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় ও দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর সঙ্গে এই ধরনের ছাড় যুক্ত হওয়ায় আরও বেশি মানুষ মেট্রোরেলের দিকে ঝুঁকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত বিশ্বে গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার এই ধরনের উদ্যোগ বেশ প্রচলিত। বাংলাদেশেও সেই ধারায় এমন উদ্যোগ নেওয়া ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তবে এই সুবিধা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন যথাযথ মনিটরিং ও সচেতনতা। অনেক যাত্রী এখনও এই সুবিধা সম্পর্কে জানেন না, তাই এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মেট্রোরেলে ভাড়া ছাড়ের এই উদ্যোগটি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সরাসরি সহায়তা করবে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।