
দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মেধাসম্পদ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি মনে করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বিশেষভাবে মেধা পাচাররোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে সমস্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে মেধাসম্পদ সুরক্ষা এবং পেটেন্টের সংখ্যা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও পরামর্শ দেন তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বাড়বে এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেধাস্বত্ব সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই এই খাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি চান, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাসম্পদ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হোক এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন নতুন পেটেন্ট তৈরি হোক।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি কার্যকর ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে ইউজিসি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ‘ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি সেল’ গঠনের কাজ চলছে। পাশাপাশি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, দেশে বিপুল পরিমাণ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এর খুব কম অংশই বাস্তব উদ্ভাবনে রূপ নিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গবেষণার ফলাফল প্রকাশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও খুব কম সংখ্যক গবেষণার জন্য পেটেন্ট আবেদন করা হয়। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবকে দায়ী করেন।
তিনি আরও জানান, মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ইউজিসি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালা আয়োজন, আইপি সেল গঠন এবং আইপি পলিসি প্রণয়ন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, মেধাসম্পদ সুরক্ষা এবং গবেষণার ফল বাণিজ্যিকীকরণ নিশ্চিত করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, দেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতকে এগিয়ে নিতে মেধাসম্পদ সুরক্ষার বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই খাতে অগ্রগতি অর্জন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।