
দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকটির ওপর সরকারের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সোমবার (২৫ মে) দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের ধারাবাহিক কিছু সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এতে সাধারণ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত রোববার (২৪ মে) ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকের চেয়ারম্যানকেও পদচ্যুত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জামায়াতের মতে, এই পদক্ষেপগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে বলেন, ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি ‘পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত দোসর’। তার ভাষায়, এ ধরনের নিয়োগ দেশের আর্থিক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকিং খাতে ‘আড়াই লাখ কোটি টাকা লুটপাটের’ সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ ‘খাল কেটে কুমির আনার’ শামিল।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা জরুরি। তারা বর্তমান গভর্নরকে ‘অযোগ্য ও দলদাস’ আখ্যা দিয়ে তাকে অপসারণের দাবি জানান।
এছাড়া লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত আনা এবং সৎ, দক্ষ ও ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় বর্তমান পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য নতুন কিছু নয়। তবে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে জামায়াতের এই প্রতিবাদ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।