
দেশে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিবর্তন আনতে ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রেও ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মোটরসাইকেলের জন্য চালু হওয়া এই পদ্ধতি এবার প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়েছে। সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদেরও জ্বালানি নিতে হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রবিবার থেকেই প্রাইভেটকারকে ফুয়েল পাস ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ সিরিজের গাড়িগুলোকে এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিরিজের গাড়িও এই ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শিগগিরই ঢাকার সব ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতেও ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে জ্বালানি নিতে হলে এই পাস ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে দ্রুত ফুয়েল পাস অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফুয়েল পাসের জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে নির্ধারিত মোবাইল অ্যাপটি স্মার্টফোনে ইন্সটল করতে হবে। যারা অ্যাপ ব্যবহার করতে চান না, তারা সরাসরি ব্রাউজার ব্যবহার করেও নির্ধারিত ওয়েব লিংকে প্রবেশ করে আবেদন করতে পারবেন।
এরপর আবেদনকারীকে গাড়ির প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চ্যাসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর, উৎপাদনের সাল এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর। এসব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করার পর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ফুয়েল পাস তৈরি হবে, যা ব্যবহার করে নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে।
ফুয়েল পাস চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি বিতরণে অনিয়ম কমানো এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীদের কাছে জ্বালানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা থাকায় সংকট তৈরি হয়। এই ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে করে জ্বালানির অপচয় কমবে এবং প্রয়োজনীয় খাতে সঠিকভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর।