
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফল ব্যবসায়ীর দোকান ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় বিএনপির এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত কয়েক দিনের মধ্যে, আর রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্তকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভুক্তভোগী ফল বিক্রেতা মো. আজিজুল হক (৬০) গত ২৪ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন (৫৫)। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুলসংলগ্ন বাজারে আজিজুল হকের একটি ছোট ফলের দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় সালাউদ্দিন বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে দোকান তৈরি এবং ভাড়ায় ব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করতেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী আজিজুল হক অভিযোগ করেন, দোকান চালাতে গেলে তাকে নিয়মিতভাবে চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হতো। অসুস্থতার কারণে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে চাঁদা দিতে না পারায় তার ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর গত শুক্রবার এক দল লোক নিয়ে সালাউদ্দিন তার দোকানে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সালাউদ্দিনসহ ৭–৮ জনের একটি দল দোকানে গিয়ে গালাগাল ও মারধর করে। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফল নষ্ট করে দেওয়া হয় এবং দোকান ভাঙচুর করা হয়। শুধু তাই নয়, বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর ছেলেকেও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আজিজুল হক আরও জানান, হামলার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছেন। অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পেত না।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হয়। প্রাথমিক প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাজারে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসনও জানিয়েছে, বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নজরদারি বাড়ানো হবে। কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা; আবার কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। তবে ব্যবসায়ীরা দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।