
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এমন নৃশংস ও দুঃখজনক ঘটনার গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সরকার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তাদের মানসিক ও আইনগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২৪ এপ্রিল জামিল আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর একদিন পর, ২৫ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও মারা গেছেন। এ ঘটনার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দেশে ব্যাপক উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
বাংলাদেশ সরকার বলছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার ও সহপাঠীরা দ্রুত বিচার এবং ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তারা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে এই ঘটনা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।