
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস পরিচালিত একটি ভাসমান সংরক্ষণ জাহাজে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার দেশটির পূর্ব উপকূলীয় তেরেঙ্গানু অঙ্গরাজ্যের কাছাকাছি সমুদ্রে অবস্থানরত একটি ভাসমান জাহাজে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে লাইফবোট পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন কর্মী লাইফবোটে অবস্থান করে সমুদ্রে কাজ করছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, লাইফবোটের সঙ্গে সংযুক্ত দড়ি বা হুক হঠাৎ খুলে যাওয়ার ফলে ভারসাম্য হারিয়ে কর্মীরা সমুদ্রে পড়ে যান। ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। সমুদ্রে পড়ে যাওয়া চারজন কর্মীকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরেকজন কর্মী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।
পেট্রোনাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে আহত কর্মীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পেট্রোনাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রভিত্তিক শিল্পে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে জাহাজে রক্ষণাবেক্ষণের সময় নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। সামান্য ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, শিল্পক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের সুরক্ষার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম এবং কঠোর তদারকি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, পেট্রোনাস মালয়েশিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের বিভিন্ন অফশোর প্ল্যাটফর্ম ও জাহাজে হাজারো কর্মী কাজ করেন।
এই দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ বের হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।