
চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় ভারতে আবারও বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। গত ১১ দিনের মধ্যে এটি চতুর্থ দফার মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সর্বশেষ দফার মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার (২৫ মে) পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২ রুপি ৬১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ২ রুপি ৭১ পয়সা বাড়ানো হয়। নতুন দামে দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১০২ রুপি ১২ পয়সায় এবং ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৫ রুপি ২০ পয়সায়।
এর আগে গত ১১ দিনের মধ্যে একাধিক দফায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়, যা ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে, যার কারণে দুধ, পাউরুটি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে আগের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাজারে দৃশ্যমান হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও ভারতে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি—ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড—প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে প্রায় এক হাজার কোটি রুপির বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছিল। এই আর্থিক চাপ সামলাতেই শেষ পর্যন্ত জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ঝুঁকি এবং রুপির দুর্বল অবস্থান জ্বালানি বাজারে চাপ অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ভারতে জ্বালানির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তবে দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিক এই মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।