
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে স্পেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে বড় দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। একই সঙ্গে সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। কয়েক সপ্তাহ পরই শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ তাদের স্কোয়াড ঘোষণা শুরু করেছে। বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখন শিরোপার বড় দাবিদারদের নাম জানিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে এবারের বিশ্বকাপের তিন বড় ফেবারিটের নাম উল্লেখ করেন স্প্যানিশ এই কোচ। তার মতে, স্পেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স—এই তিন দলই শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যদিও আমরা ফেবারিটদের মধ্যে আছি। আমাদের মাটিতে পা রেখেই এগোতে হবে। আমি এটা বলতে ভয় পাই না যে আমরা ফেবারিট। তবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সও সমানভাবে ফেবারিট।”
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেদের ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। সেই সাফল্যের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ‘লা রোহা’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া দলটি ইউরোপিয়ান ফুটবলে নতুন করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
বিশেষ করে লামিনে ইয়ামাল, গাভি, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসদের মতো তরুণ তারকাদের পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী স্পেন শিবির। যদিও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না বার্সেলোনার তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। তবুও তাকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গাভিরও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন স্পেন কোচ। তরুণদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়েও ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়তে চান তিনি।
দে লা ফুয়েন্তে আরও জানিয়েছেন, জাতীয় দলে কোনো ক্লাবভিত্তিক বিভাজন নেই। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা বা অন্য ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সবাই দেশের জন্য একসঙ্গে লড়াই করছে।
তার ভাষায়, “এখানে কোনো ক্লাবের খেলোয়াড় নেই, এখানে সবাই জাতীয় দলের খেলোয়াড়। মানসিকতাও আলাদা। আমরা সবকিছু ভুলে গিয়ে সবসময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।”
বিশ্বকাপ সামনে রেখে স্পেনের আত্মবিশ্বাস বাড়লেও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে দলটি। কারণ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ছোট ভুলও বড় মূল্য দিতে হয়। তাই নিজেদের অন্যতম দাবিদার মনে করলেও প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে চান দে লা ফুয়েন্তে।
এবারের বিশ্বকাপে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলো ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দলও শিরোপার লড়াইয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্পেন কোচের মতে, বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা ও ধারাবাহিকতার বিচারে স্পেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সই সবচেয়ে এগিয়ে।