
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবমুখর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে এই আনন্দঘন আয়োজনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে।
বিশেষ করে Amnesty International-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সাম্প্রতিক সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিদেশি দর্শকদের হয়রানির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ি নীতির ফলে অনেক দর্শক বিমানবন্দর বা সীমান্তে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ বা বিলম্বের শিকার হতে পারেন। এমনকি মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত তথ্যও তল্লাশি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই সতর্কবার্তার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কঠোর অভিবাসন নীতি এবং কিছু শহরে বাড়তে থাকা সহিংসতার ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলস, শিকাগো এবং মিনিয়াপোলিস-এর মতো বড় শহরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও বিক্ষোভ দমনের সময় সহিংসতার ঘটনা বেশি দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে FIFA। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার রক্ষা করা হবে এবং সকল দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক দেশগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে। এতে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে, যা টুর্নামেন্টের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করবে। এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছেন। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এই সতর্কতা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় কোনো ক্রীড়া আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে আয়োজক দেশগুলোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব বর্তায়।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যেমন বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তেমনি এই ধরনের সতর্কবার্তা সেই উত্তেজনার মাঝে নতুন করে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আয়োজক দেশগুলো কীভাবে এই উদ্বেগ দূর করে সফলভাবে এই বৃহৎ আয়োজন সম্পন্ন করে।