
তারেক রহমান-এর যশোর সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম যশোর সফর হলেও, গত তিন মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এই জেলায় আগমন। ফলে রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস।
সরকারি ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় তিনি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে সরাসরি যাবেন শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায়। এই এলাকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে পরিচিত।
উলাশীতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি সেখানে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকবেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী যশোর শহরে ফিরে এসে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। স্বাস্থ্য খাতে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, এটি বাস্তবায়িত হলে যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।
এছাড়া তিনি যশোরের ঐতিহ্যবাহী ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন, যার ইতিহাস প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো। এই লাইব্রেরি শুধু যশোর নয়, বরং দেশের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
দুপুরে যশোর সার্কিট হাউসে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকাল সাড়ে তিনটায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই জনসভাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপি কয়েকদিন ধরে সভা, মিছিল ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতারা আশা করছেন, এই জনসভায় বিপুল জনসমাগম হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর একটি অগ্রবর্তী দল ইতোমধ্যে যশোরে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সফরকে নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর যশোরের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই অঞ্চলে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে।
স্থানীয় জনগণও আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে যশোরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং যশোরবাসীর জন্য উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন বার্তা নিয়ে আসছে।