
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে বাসাইল–টাঙ্গাইল সড়কের বাংড়া কালিমন্দির এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
নিহতরা হলো উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের বাংড়া গ্রামের তিন কিশোর—প্রবাসী রফিক মিয়ার ছেলে তাকবির মিয়া (১৫), শওকত আলীর ছেলে লিমন (১৪) এবং সোলাইমানের ছেলে সায়মন (১৪)। তারা সবাই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিল এবং স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে বাসাইল উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিল। পথে বাংড়া কালিমন্দির এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তাকবির মিয়া নিহত হন।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় লিমন ও সায়মনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন মারা যায়। সায়মনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
টাঙ্গাইল জেলার এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন কিশোরের একসঙ্গে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক ভিড় জমে যায় এবং পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তিন স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো এবং সড়কে বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবারগুলো এখন শোকাহত এবং পুরো এলাকা গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।