
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য Golam Sarwar Milon আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোরে রাজধানী ঢাকার নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফাতেমা সারোয়ার, ছেলে সাবায়ের সারোয়ার এবং মেয়ে তানজিয়া সারোয়ার অমিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার জানাজা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বাদ যোহর মানিকগঞ্জের সিংগাইর হাইস্কুল মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ মাগরিব রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের কবিরাজ জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
রাজনৈতিক জীবনে গোলাম সারোয়ার মিলন ছিলেন বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮১-৮২ মেয়াদে Jatiyatabadi Chhatra Dal–এর প্রথম নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ভাসানী-ন্যাপ সমর্থিত বাম ঘরানার ছাত্র সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে তিনি Jatiya Party–তে যোগ দেন এবং দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। একই বছরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি Hussain Muhammad Ershad–এর মন্ত্রিসভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষা খাতে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
২০০৭ সালের আলোচিত Bangladesh political crisis 2007–এর পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের সময় তিনি ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলে (পিডিপি) যোগ দেন। তবে পরবর্তীতে আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসেন।
রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি A. Q. M. Badruddoza Chowdhury–এর বিকল্পধারায় যোগ দেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি।
গোলাম সারোয়ার মিলনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ছিল নানা উত্থান-পতন, দল পরিবর্তন এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। দেশের ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
তার মৃত্যুতে সহকর্মী, সমর্থক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও অবদান দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে, গোলাম সারোয়ার মিলনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।