
বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন পরিবর্তনের আলোচনার মধ্যেই এবার গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি তুলেছেন সাবেক জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক Rumana Ahmed। তার মতে, Bangladesh Cricket Board–এর পরিচালক পদে নারী ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের দাবি এবং এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুমানা আহমেদ বলেন, বোর্ডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যদি নারী ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্ব থাকে, তাহলে মাঠের ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের বাস্তব সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তার ভাষায়, নারী ক্রিকেটের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো একজন নারী ক্রিকেটারই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন।
বর্তমানে Tamim Iqbal–এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাড-হক কমিটি বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আগে Aminul Islam Bulbul–এর নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এই পরিবর্তনের সময়েই নারী ক্রিকেটারদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রুমানা বলেন, “অনেকেই মনে করছেন পরিচালক পদে একজন নারী ক্রিকেটারের থাকা উচিত। আমরাও চাই, কারণ এতে নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।”
বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিসিবির বোর্ডে মোট ২৫ জন পরিচালক রয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে, ১০ জন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে, ২ জন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত এবং ১ জন সাবেক ক্রিকেটার ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তবে এই কাঠামোয় নারী ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো কোটা বা নির্দিষ্ট পদ নেই।
রুমানা নিজেও স্বীকার করেছেন, এই কাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন আনা সহজ নয়। গঠনতন্ত্র সংশোধন ছাড়া নারী ক্রিকেটারদের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন। তবে তিনি মনে করেন, বোর্ড চাইলে উদ্যোগ নিয়ে এই পরিবর্তন সম্ভব।
পুরুষ ক্রিকেটে সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের বোর্ডে আসা একটি স্বাভাবিক বিষয় হলেও নারী ক্রিকেটে এমন সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করেন রুমানা। তিনি বলেন, “ছেলেরা যেমন বোর্ডে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, মেয়েদের ক্ষেত্রেও সেই সুযোগ থাকা উচিত।”
বর্তমানে অ্যাড-হক কমিটি আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচন ও সম্ভাব্য গঠনতান্ত্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে নারী ক্রিকেটারদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিসিবির বোর্ডে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে তা শুধু নারী ক্রিকেট নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য আসবে এবং নারী খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো আরও গুরুত্ব পাবে।
সব মিলিয়ে, বিসিবির পরিচালক পদে নারী ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তির এই দাবি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।