
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় যৌথবাহিনীর এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুতকৃত ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মহিউদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি জ্বালানি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন Hatia Police Station–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন। তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের কালামচর সুইচ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি কন্টিনজেন্ট এবং হাতিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালান। অভিযানে মুক্তারিয়া এলাকার একটি স্থানে অবস্থিত ‘মা-বাবার দোয়া বরফ কল’ সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৫টি ব্যারেলে সংরক্ষিত প্রায় ২৭০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মহিউদ্দিন একই ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করে তা মজুত করছিলেন এবং সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযান চলাকালে জব্দকৃত ডিজেলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিয়ম ও সংকটের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসন এ ধরনের অভিযান জোরদার করেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও পাচারের ঝুঁকি বেশি থাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বাজারে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এই অভিযানের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
সব মিলিয়ে, হাতিয়ার এই অভিযান প্রমাণ করেছে যে প্রশাসন জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে সক্রিয় রয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।