
দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে Bangladesh Meteorological Department। সংস্থাটি জানিয়েছে, গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে আগামী ৯৬ ঘণ্টা এসব অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়াসহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, আর কোথাও কোথাও তা ১৮৮ মিলিমিটার অতিক্রম করতে পারে। এই অতিবৃষ্টির কারণে বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে Mymensingh Division ও Sylhet Division–এর নগর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। নগরবাসীকে এ সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই সময় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাতও হতে পারে, যা জনজীবনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সঞ্চালনশীল মেঘমালা সাধারণত মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার পূর্বাভাস দেয়। ফলে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছু এলাকায় বেশি হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা পানি জমে যাওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কৃষকদের জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। যেসব এলাকায় ধান কাটা চলছে বা শুকানোর কাজ চলছে, সেখানে হঠাৎ বৃষ্টিতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগাম সতর্কতা নিয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঝড়ো হাওয়ার কারণে গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা দুর্বল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে এবং জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।