
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত বিজিএফ (VGF) কর্মসূচির সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আয়নাল হক এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মানিয়ার মোল্লা। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে রবিবার (২৪ মে) কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ধামশ্বর ইউনিয়নের ১ হাজার ৭৮৮ জন উপকারভোগীর জন্য ১৭.৮৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বরাদ্দের মধ্য থেকে ৫০ কেজি করে মোট ৫০ বস্তা, অর্থাৎ প্রায় ২.৫ মেট্রিক টন চাল গোপনে সরিয়ে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে প্রশাসনের অভিযানে উপজেলার রাথুরা গ্রামের জাহানারা বেগমের বাড়ি থেকে এসব চাল জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুই ইউপি সদস্য স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগসাজশে চালগুলো সেখানে মজুদ করেছিলেন।
তবে বাড়ির মালিক জাহানারা বেগম দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা তাকে জানিয়েছিলেন কিছু দিনের মধ্যেই চালগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দকৃত চাল ক্রয়-বিক্রয় বা আত্মসাৎ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, তাই বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
ঘটনার পর দৌলতপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।