প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 24, 2026 ইং
জিলহজের ফজিলত ও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

ইসলামের দৃষ্টিতে জিলহজ মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা যে চারটি সম্মানিত মাসের কথা উল্লেখ করেছেন, জিলহজ তার অন্যতম। জাহেলি যুগেও এই মাসকে সম্মান করা হতো এবং এ সময়ে মানুষ অন্যায়-অপরাধ থেকে বিরত থাকত।
বিশেষ করে জিলহজের প্রথম দশ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “শপথ ভোরবেলার, ও দশ রাত্রির।” (সুরা ফাজর: ১-২)। হাদিসে এই দশ দিনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর নেক আমলের চেয়ে প্রিয় আর কোনো আমল নেই।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে জিলহজ মাসের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল নিচে তুলে ধরা হলো—
১. হজ ও কোরবানি
জিলহজ মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইবাদত হলো হজ ও কোরবানি। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর হজ ফরজ। আর কোরবানি হচ্ছে ওয়াজিব ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়।
২. তাওবা ও ইস্তিগফার
এই মাসে বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি ক্ষমাশীল।
৩. নফল রোজা রাখা
জিলহজের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা সুন্নত। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজার ফজিলত অনেক বেশি, যা এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
৪. তাকবির ও তালবিয়া পাঠ
এই সময় বেশি বেশি তাকবির (আল্লাহু আকবার) এবং তালবিয়া পাঠ করা সুন্নত। ঈদের আগের দিনগুলোতে প্রত্যেক নামাজের পর তাকবির পড়া গুরুত্বপূর্ণ আমল।
৫. তাহাজ্জুদ নামাজ
রাতের নামাজ বা তাহাজ্জুদ আদায় করা এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদিসে এসেছে, এই সময়ের রাতের নামাজ শবে কদরের সমতুল্য সওয়াব এনে দেয়।
৬. অধিক পরিমাণে জিকির
আল্লাহর জিকির বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য এনে দেয়। এই মাসে বেশি বেশি ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ পড়া উচিত।
৭. কোরআন তেলাওয়াত
কোরআন তেলাওয়াত এমন একটি ইবাদত যার প্রতিটি অক্ষরে নেকি পাওয়া যায়। জিলহজ মাসে বেশি বেশি কোরআন পড়া বিশেষ ফজিলতের কাজ।
৮. দরুদ শরিফ পাঠ
রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সময় বেশি বেশি দরুদ পাঠ করলে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।
৯. দোয়া ও মোনাজাত
এই মাস দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
১০. দান-সদকা
জিলহজ মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে কোরবানির গোশত গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।
সবশেষে বলা যায়, জিলহজ মাস শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় সময় নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। এই মাসে যত বেশি নেক আমল করা যায়, তা একজন মুমিনের আখিরাতের পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা