
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান ৬৫ নম্বর সূর্যমনি নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিম সরবরাহ নিয়ে স্থানীয় সরবরাহকারীর সঙ্গে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন ওই শিক্ষক। সম্প্রতি সরবরাহকারীর সঙ্গে তার কথোপকথন ও যোগসাজশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এমন অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১১ মে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত শেষে ২১ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী ২১ মে থেকে হাবিবুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক, পিরোজপুর জেলা প্রশাসক এবং বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম মূলত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে। এই ধরনের অনিয়ম শুধু শিক্ষার্থীদের ক্ষতিই করে না, বরং পুরো কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার।