
নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর কানাডার জনপ্রিয় অভিনেতা স্টুয়ার্ট ম্যাকলিন-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে সর্বশেষ গত ১৫ মে লায়ন্স বে-তে তার নিজ বাসভবনে দেখা গিয়েছিল। এরপর ১৮ মে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ-কে। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে।
টেলিভিশন জগতে ম্যাকলিন পরিচিত ছিলেন বিভিন্ন জনপ্রিয় সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে। বিশেষ করে ভার্জিন রিভার, অ্যারো এবং দ্য ইর্যাশনাল-এ তার অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে। তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ ব্যক্তির অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে স্থানীয় পুলিশ। পরে তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি হস্তান্তর করা হয় ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম-এর কাছে।
অবশেষে ২২ মে লায়ন্স বে এলাকার একটি স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মরদেহটি পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত সংস্থার কর্পোরাল এস্থার টুপার জানান, ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত এখনো চলছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ম্যাকলিনের নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনগুলোর গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে অভিনেতার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তার এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, তিনি ছিলেন অত্যন্ত পেশাদার, প্রাণবন্ত এবং নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ, যাকে তার সহকর্মীরা গভীরভাবে মিস করবেন।
২০১৫ সাল থেকে ভ্যাঙ্কুভারভিত্তিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে আসছিলেন ম্যাকলিন। মূলত সহ-অভিনয়ের চরিত্রে কাজ করলেও তার উপস্থিতি ছিল বেশ শক্তিশালী ও উল্লেখযোগ্য। সুপারন্যাচারাল, সাইরেন, হ্যাপি ফেস এবং মার্ডার ইন এ স্মল টাউন-এর মতো সিরিজে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়া অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩০টিরও বেশি প্রজেক্টে কাজ করে নিজেকে একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, তার হঠাৎ মৃত্যু কানাডার বিনোদন অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুর রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।