
বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, জলবায়ু সংকট, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ও পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলন ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুইডেন ও নরওয়ে সফরকে ঘিরে এই সম্পর্ক নতুন গতি পায়। সফরের সময় সুইডেনের সঙ্গে বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং নরওয়ের সঙ্গে ‘গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ গড়ে তোলে ভারত। এর আগে মার্চে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ডিজিটালাইজেশন ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক অংশীদারত্বে পৌঁছায় দেশটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত এখন নর্ডিক অঞ্চলকে শুধু ছোট অর্থনীতির গোষ্ঠী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি, জলবায়ু, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে।
বর্তমানে নর্ডিক দেশগুলো উদ্ভাবন, সবুজ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোয় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে। ভারত-সুইডেন অংশীদারত্বের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ৬জি, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত-সুইডেন প্রযুক্তি ও এআই করিডর গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ডেনমার্কের সঙ্গে ভারতের সবুজ কৌশলগত অংশীদারিত্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং জলবায়ু প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নরওয়ের সঙ্গে ভারত সবুজ জ্বালানি, সমুদ্র অর্থনীতি, কার্বন ক্যাপচার ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা জোরদার করছে।
ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ৫জি-৬জি প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যৌথ কাজের পরিকল্পনাও এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চল, সাইবার নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, নর্ডিক অঞ্চল ভারতের জন্য শুধু প্রযুক্তি ও পুঁজির উৎস নয়, বরং ইউরোপীয় বাজার, পরিবেশবান্ধব শিল্প এবং বৈশ্বিক কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবেও আবির্ভূত হচ্ছে।