
হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। এবার হজবিষয়ক বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভিজিট ভিসাধারী ব্যক্তিদের অবৈধভাবে হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে সহায়তা করলে বা তাদের আশ্রয় দিলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যক্তিগত বাসা বা যেকোনো আবাসিক স্থানে যদি ভিজিট ভিসাধারী ব্যক্তিদের অবৈধভাবে অবস্থান করতে দেওয়া হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। এই জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়—অবৈধভাবে মক্কা বা পবিত্র স্থানগুলোতে অবস্থান করতে সহায়তা করা, লুকিয়ে রাখা কিংবা যেকোনো ধরনের সহযোগিতাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, পুরো হজ মৌসুমজুড়েই এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। কেউ একাধিকভাবে এই নিয়ম ভাঙলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরিমানার পরিমাণও বাড়তে পারে।
এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বৈধ হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, হজের সময় অবৈধভাবে অবস্থান বা প্রবেশের চেষ্টা করলে তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং এটি ধর্মীয় ও প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গেরও শামিল। তাই সবাইকে কঠোরভাবে হজবিষয়ক নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি যোগাযোগ নম্বর চালু করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নিয়ম ভঙ্গ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবছর হজ মৌসুমে জনসমাগম ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সৌদি সরকার এবার আগের চেয়ে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে হজ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
সব মিলিয়ে, নতুন এই সিদ্ধান্ত হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অবৈধ প্রবেশ ও অনিয়ম কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।