
গ্যাস ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গাইবান্ধা জেলা শাখা। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টায় গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের গানাসাস মার্কেটের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিপিবির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম—সবকিছুতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
সমাবেশ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ করা এবং বাজারে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা। বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিপিবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষ এবং জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুরাদ জামান রব্বানীসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে শুধু পরিবহন খাত নয়, শিল্প উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে সংগঠনের জেলা কার্যালয়, ১ নম্বর রেলগেটে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বাজার তদারকি জোরদার, ভর্তুকি ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, গাইবান্ধায় সিপিবির এই বিক্ষোভ কর্মসূচি দেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।