
জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেছেন, দেশে মাদক সমস্যা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং এটি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরিষাবাড়ী উপজেলা-তে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশের তরুণ সমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা একটি বড় সামাজিক সংকেত। মাদকের সহজলভ্যতা এবং সচেতনতার অভাব তরুণদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলোতে অস্থিরতা বাড়ছে এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
শামীম তালুকদার জোর দিয়ে বলেন, “শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব না। আইন প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, এটি সমস্যার মূল সমাধান নয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং সন্তানদের প্রতি আরও বেশি নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
আলোচনা সভার আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও মাদক সমস্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, দেশে মাদকবিরোধী নানা অভিযান পরিচালিত হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক কর্মকাণ্ড যেমন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে তারা মাদকের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারবে।
সব মিলিয়ে, শামীম তালুকদারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, মাদক সমস্যা একটি বহুমাত্রিক সংকট, যার সমাধানও বহুমাত্রিক হতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন—এই তিনটির সমন্বয়েই সম্ভব একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।