
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় আরও শক্তভাবে যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই অঞ্চলকে তার ন্যায্য উন্নয়ন অংশীদারিত্ব ফিরিয়ে দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উন্নয়ন বিষয়ক এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। তার মতে, এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তাই এই অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর কুষ্টিয়া কল্যাণ ফোরামের সভাপতি ড. খ ম কবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, তবেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, মো. মনিরুজ্জামান এবং মো. রুহুল আমিনসহ আরও অনেকে। বক্তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অবকাঠামো—সব খাতেই ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই অঞ্চল দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।
এছাড়া, রপ্তানি খাতের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই প্রতিশ্রুতি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হয়, সেটিই দেখার বিষয়।