
শেরপুর শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে স্থানীয় এক যুবকসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, স্থানীয় শাহিন মিয়ার ছেলে কাউছার ওরফে কায়েস (২৪) শিশুটিকে বিভিন্ন সময় ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে একাধিক ঘটনার কারণে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে অভিযুক্তরা গর্ভপাত করায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভপাতের পর শিশুটির শরীরে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সুন্নত আলী সন্তু (৬০) নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। মূল অভিযুক্ত কাউছার মিয়া এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রভাবশালী মহল থেকে চাপও দেওয়া হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, শিশুটি গাইনি বিভাগে ভর্তি রয়েছে এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শেরপুর সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।