
বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত অর্থনৈতিক জোটের প্রেক্ষাপটে নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নতুন কৌশলগত মাত্রা পেয়েছে। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেন—এই পাঁচ নর্ডিক দেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা এখন আর শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রযুক্তি, সবুজ অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে উঠছে।
নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সুইডেন ও নরওয়ে সফর এই সম্পর্ককে নতুন গতিতে নিয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। মে ২০২৬ সালে সুইডেন ও নরওয়ের সঙ্গে যথাক্রমে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ এবং ‘গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ডিজিটালাইজেশন ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করে ভারত।
নর্ডিক দেশগুলোকে এখন ভারত কেবল ছোট অর্থনীতির গোষ্ঠী হিসেবে নয়, বরং উচ্চ প্রযুক্তি, জলবায়ু নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। সুইডেনের সঙ্গে এআই, ৬জি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘সুইডেন-ইন্ডিয়া টেকনোলজি অ্যান্ড এআই করিডর’ চালুর উদ্যোগও রয়েছে।
ডেনমার্কের সঙ্গে ‘গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। নরওয়ের সঙ্গে সবুজ জ্বালানি, কার্বন ক্যাপচার ও সমুদ্র অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বাড়ছে, যেখানে দেশটির সার্বভৌম তহবিল ভারতের বাজারে বড় বিনিয়োগ করছে। ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ৫জি-৬জি, সেমিকন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে গভীর সহযোগিতা গড়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক শুধু অর্থনীতি নয়, বরং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও আর্কটিক কৌশলগত অবস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ন্যাটো সম্প্রসারণের পর নর্ডিক অঞ্চল ইউরোপীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভারত-নর্ডিক সহযোগিতা এখন প্রযুক্তি, মূলধন, জলবায়ু দক্ষতা ও কৌশলগত আস্থার এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যা আগামী দশকে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।