
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালীতে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দুইটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আইআরজিসি নৌ-শাখার অভিযানে জাহাজ দুটি আটক করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাহাজগুলো কোনো অনুমতি ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রবেশ করছিল এবং নৌ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল।
Strait of Hormuz বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এখানে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
আটক করা জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো পানামার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ MSC Francesca। এটি শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। ইরানের দাবি, জাহাজটির সঙ্গে ইসরায়েলের সংযোগ থাকতে পারে, যা তদন্তের বিষয়।
অন্যদিকে আরেকটি জাহাজ লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী, গ্রিক মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এটি ভারতের গুজরাটের দিকে যাচ্ছিল।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, আইআরজিসি নৌবাহিনীর গানবোট কোনো সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে এতে কোনো নাবিক হতাহত হয়নি।
আরেকটি জাহাজ, “ইফোরিয়া”, গুলিবর্ষণের মুখে পড়লেও সেটি নিরাপদে ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে আটক জাহাজ দুটি ইরানি উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা অনেক কমে গিয়ে হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। কারণ বিশ্বের তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটককে কেন্দ্র করে নতুন করে বৈশ্বিক শিপিং ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।