
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় অবস্থিত উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও বিস্ফোরকসদৃশ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদ্রাসা ভবন থেকে কয়েকটি ড্রামে রাখা প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক, চারটি ককটেলসদৃশ বস্তু, একটি ল্যাপটপ এবং দুটি মনিটর জব্দ করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার সকালে ওই ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শিশুসহ মোট চারজন আহত হন।
বিস্ফোরণে ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদের অংশবিশেষ বিধ্বস্ত হয়। জানালার কাচ ভেঙে পড়ে এবং দেয়ালের অংশ ছিটকে আশপাশে ছড়িয়ে যায়। পাশের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষকের দুই ছেলে উমায়ের (১১) ও আবদুল্লাহ (৮), মেয়ে রাবেয়া (৬) এবং পাশের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের শ্রমিক জাকির হোসেন (৪৫)। গুরুতর আহত উমায়েরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাকে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এবং অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন মাদ্রাসা পরিচালক শেখ আল আমিন পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রী আছিয়া, আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার এবং আসমানী খাতুন ওরফে আসমাকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বাগেরহাটের বাসিন্দা আল আমিনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন থানায় মোট সাতটি মামলা রয়েছে। তিনি ২০১৭ ও ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং ২০২৩ সালে জামিনে মুক্ত হয়ে হাসনাবাদ এলাকায় অবস্থান শুরু করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।