
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা চার বন্দির সাজা মওকুফ করে তাদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর খুব শিগগিরই এসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
রোববার (২৪ মে) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তর-এর সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ। তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় এই চার বন্দির সাজা মওকুফ করা হয়েছে।
মুক্তির আদেশ পাওয়া বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা জেলা কারাগারের কয়েদি মো. ইসলাম শেখ, ফরিদপুর জেলা কারাগারের নাঈম শিকদার, চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের আব্দুল মালেক এবং রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের পলাশ বড়ুয়া। তারা নিজ নিজ কারাগারে দণ্ড ভোগ করছিলেন।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই বিশেষ কিছু উপলক্ষে সরকার মানবিক কারণে কিছু বন্দির সাজা মওকুফ করে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে বন্দিরা নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের নিজ নিজ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, অন্যদিকে বন্দিদের সমাজে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে শাস্তি ভোগ করছেন এবং আচরণগতভাবে ভালো অবস্থানে আছেন, তাদের জন্য এটি একটি নতুন সুযোগ তৈরি করে।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে।
উল্লেখ্য, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের ক্ষেত্রে আইনগত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চার বন্দির সাজা মওকুফের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে। এখন অপেক্ষা, কবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।