
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া পরিচালিত হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালানোর পর এটি প্রথম বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযানের সময় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। সর্বশেষ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমভি-২২বি অসপ্রে বিমান কারাকাসে অবতরণ করে এবং কয়েকটি জাহাজ ক্যারিবীয় সাগর হয়ে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় প্রবেশ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, সম্ভাব্য চিকিৎসা জরুরি অবস্থা বা দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই মহড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্নমত রয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ধরনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান ফ্রান্সিস ডোনোভান একটি অসপ্রে বিমানে করে কারাকাসে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানা গেছে। এই সফরকে কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারাকাসের স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ৫৭ বছর বয়সী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইভেলিন রেবোলেদো বলেন, এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি তাদের সতর্ক অবস্থায় রাখছে। তিনি জানান, বিদেশি বিমান আকাশে দেখা এখন নতুন এক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে সমর্থন দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সরকার ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ তেল ও খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ সহজ করতে বিভিন্ন নীতি ও আইন প্রণয়ন করেছে।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো প্রবাসী ভেনেজুয়েলীয়দের এক সমাবেশে বলেন, তাদের দেশে ফেরার সময় খুব কাছাকাছি। তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন।
মাচাদো, যিনি নোবেলজয়ী এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন, বর্তমানে বিদেশ থেকে বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বাধীন দলকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে দাবি করা হলেও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
সব মিলিয়ে কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটিকে নতুন করে সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এতে প্রভাবিত হতে পারে।