
বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উড়োজাহাজ ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে British Airways। সংস্থাটি জানিয়েছে, জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনার খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়বে যাত্রীদের টিকিটের দামে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মূল কোম্পানি International Airlines Group (আইএজি) জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz-এর পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
আইএজি সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা আংশিকভাবে ব্যাহত হলে তা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। এর ফলে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে গিয়ে বিমান পরিচালনা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক তেলের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানির বাজারে প্রভাব ফেলে এবং তার ঢেউ পৌঁছে যায় বিমান শিল্পে।
সাধারণত বিমান সংস্থাগুলো বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় ‘হেজিং’ কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এর মাধ্যমে তারা আগাম নির্দিষ্ট দামে জ্বালানি কিনে রাখে, যাতে হঠাৎ দাম বাড়লেও কিছুটা ঝুঁকি কমানো যায়। তবে আইএজি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই হেজিং ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না।
এদিকে ইউরোপের বিমান নিরাপত্তা সংস্থা European Union Aviation Safety Agency (ইএএসএ) বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্থাটি এমন একটি নির্দেশিকা তৈরির কাজ করছে, যাতে ইউরোপের দেশগুলো সহজে ‘জেট-এ’ ধরনের জ্বালানি ব্যবহার শুরু করতে পারে।
বর্তমানে ইউরোপে মূলত ‘জেট এ-১’ জ্বালানি ব্যবহৃত হলেও, জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিকল্প হিসেবে ‘জেট-এ’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইএএসএ জানিয়েছে, আধুনিক অধিকাংশ বিমানের ইঞ্জিনই এই দুই ধরনের জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষম।
উত্তর আমেরিকায় সাধারণত ‘জেট-এ’ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ইউরোপের বিমানগুলো যখন উত্তর আমেরিকা থেকে ফিরে আসে, তখন তারা ইতোমধ্যে ওই জ্বালানি ব্যবহার করে থাকে, যা ট্যাংকে থাকা আগের জ্বালানির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা তুলনামূলক সহজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান ভাড়ার ওপর। কারণ একটি ফ্লাইট পরিচালনার মোট খরচের বড় অংশই জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়। ফলে খরচ বেড়ে গেলে তা যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াই হয়ে ওঠে সংস্থাগুলোর জন্য একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায়।
এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটগুলোতে এই প্রভাব বেশি পড়বে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, জ্বালানি সংকট, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বিমান শিল্প এখন একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ খরচের ওপর, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।