
ইরান ইস্যুতে সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কার বা সদস্যপদ স্থগিত করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল বার্তার সূত্রে এই তথ্য সামনে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেনের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এবং জোটের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর জন্য আকাশপথ ব্যবহার, সামরিক ঘাঁটির সুবিধা এবং ওভারফ্লাইট অধিকার নিশ্চিত করা ন্যূনতম দায়িত্বের অংশ। যদিও স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত Naval Station Rota এবং Morón Air Base ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তবে ইরানের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তার দেশ আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো অভ্যন্তরীণ ইমেইলের ভিত্তিতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের ভিত্তিতেই স্পেন সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, এই প্রস্তাব সামনে আসার পর ন্যাটো এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জোটের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশকে বহিষ্কার বা সদস্যপদ স্থগিত করার স্পষ্ট বিধান নেই। জার্মানি এবং ইতালি স্পেনের সদস্যপদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, জোটের ঐক্য বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের চেয়ে মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পেন্টাগনের বার্তায় আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মার্কিন অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যা নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
তবে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ত্যাগ করা বা ইউরোপের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই ইরান ইস্যুতে মিত্রদের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহযোগিতা আদায়ের একটি কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছেন।