
দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছে শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ’। সংগঠনটির দাবি, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, শিশুদের জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানের বরাতে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত সময়ে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ৪৬ শিশু ধর্ষণের চেষ্টার শিকার এবং অন্তত ১৭ শিশু ধর্ষণ বা ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে।
সংগঠনটি মনে করে, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের কারণে শিশুদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেছে, শুধু আইন নয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শিশু অধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষা কমিটি সক্রিয় করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য হেল্পলাইন ১০৯৮ ও ৯৯৯ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণার দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশু সুরক্ষা কমিটি কার্যকর করা এবং শিশু নির্যাতনের সব মামলাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, শুধুমাত্র গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।