
বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের চেয়েও কঠিন বলে মনে করছে সরকার। দেশের ধসে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের মধ্যেই ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতসহ বৈশ্বিক সংকট নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই সরকারকে প্রস্তুত করতে হচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আয় ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি হ্রাস ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। রাজস্ব ঘাটতি, জ্বালানি খাতের অস্থিরতা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি বাজেট প্রণয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনা এবং সম্পদকর চালু করা। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে আমদানিনির্ভর শিল্পে কাঁচামালের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানোর চিন্তাও চলছে।
এছাড়া বিতর্কিত হলেও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ ফের চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করতে করপোরেট কর কমানো এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ, অন্যদিকে জনস্বার্থে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—এই ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়ন ব্যয় ও ভর্তুকি বাড়ার কারণে বাজেট ঘাটতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই বাজেট কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের একটি বড় পরীক্ষা।