
পশ্চিমবঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে যেখানে দুই দিনের ছুটি ছিল, সেখানে এখন শুধুমাত্র একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদের প্রকৃত তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হওয়ায় ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে ২০২৬ সালের জন্য ঈদের ছুটি মঙ্গলবার ও বুধবার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহা পালিত হবে বৃহস্পতিবার (২৮ মে)। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু ওই দিনটিকেই সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এর ফলে আগের ঘোষিত মঙ্গলবার ও বুধবারের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং ওই দুই দিনকে সাধারণ কর্মদিবস হিসেবে গণ্য করা হবে।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বাস্তব সময় অনুযায়ী ছুটির দিন নির্ধারণ করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেহেতু ঈদ একটি চাঁদনির্ভর ধর্মীয় উৎসব, তাই পূর্বঘোষিত ক্যালেন্ডারের সঙ্গে প্রকৃত তারিখের অমিল হলে ছুটির সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনায় ছুটি কমিয়ে দেওয়া উচিত হয়নি। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি কেবল সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে ঈদুল আজহার সময় সাধারণত দুই দিনের সরকারি ছুটি দেওয়া হতো বলে জানা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ছুটি কমিয়ে একদিন করায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনারও জন্ম দিতে পারে। কারণ ধর্মীয় উৎসবের ছুটির বিষয়টি সাধারণ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এদিকে সাধারণ জনগণের একটি অংশ মনে করছে, ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবে ছুটি বাড়ানো বা অন্তত আগের মতো রাখা উচিত ছিল, যাতে মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যথাযথভাবে উৎসব পালন করতে পারে।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঈদুল আজহা ঘিরে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসে কি না।