
কিশোরগঞ্জের হাওর-অধ্যুষিত উপজেলা অষ্টগ্রামে ধানের খলায় কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় তার স্ত্রীসহ আরও দুই নারী আহত হয়েছেন।
নিহত কৃষকের নাম মহব্বত খাঁ (৪২)। তিনি বাহাদুরপুর গ্রামের জমরুত খাঁর ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মহব্বত খাঁ তার স্ত্রী রুমা বেগম (৩৬) ও পাশের আরেক নারী মর্জিনা বেগম (৫০)-এর সঙ্গে বাড়ির সামনে ধানের খলায় কাজ করছিলেন। ধান শুকানোর জন্য তারা খলায় ধান স্তূপ করছিলেন। দুপুরের দিকে আকাশ হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখে তারা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ বজ্রপাত ঘটে। বজ্রাঘাতে মহব্বত খাঁ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে মারা যান। তার মৃত্যু মুহূর্তেই ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী রুমা বেগমও বজ্রাঘাতে আহত হন। পাশেই থাকা মর্জিনা বেগম নামের অপর নারীও আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত রুমা বেগমের ডান হাত দগ্ধ হয়েছে এবং মর্জিনা বেগমের দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, হাওর অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এমন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষকরা জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেন, কিন্তু বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বা সতর্কতা অনেক সময় থাকে না। তারা হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
সব মিলিয়ে এই ঘটনায় একটি পরিবারে শোক নেমে এসেছে এবং হাওর অঞ্চলের কৃষকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের বাস্তবতাও আবারও সামনে এসেছে।