
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ ২২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।
মামলাটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবির। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, এনসিপির নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার (২২ মে) এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ঝিনাইদহ সফরে আসেন। ওই সফরের সময় স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মীরা অবৈধভাবে একত্রিত হয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ আনা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে একই ঘটনায় শুক্রবার রাতে এনসিপির পক্ষ থেকেও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই মামলায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও অনেককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও ওঠে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই এনসিপির নেতাকর্মীরা থানায় অবস্থান নেন এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রদলের আট নেতার নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত ১০টার দিকে পুলিশি পাহারায় নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ঝিনাইদহ এলাকা ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও উসকানির অভিযোগ তুলছে। স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি মামলা রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে।
বর্তমানে পুলিশ উভয় মামলার বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।