
বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর ও চারটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পরিবেশ ও স্থানীয় সড়ক রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মির্জাপুর ইউনিয়ন, শেরপুর-এর আড়ংশাইল গ্রামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি উত্তোলনের কার্যক্রম চলছিল বলে জানা যায়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল হাসান। তিনি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ঘটনাস্থলেই তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. রাকিব (২৩), একই উপজেলার মো. আরমান (২৬) এবং কাহালু উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. আল-আমিন (২৩)। তারা মূলত এক্সকাভেটর ও ড্রাম ট্রাকের চালক হিসেবে কাজ করছিলেন।
অভিযানের সময় একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) এবং চারটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। পাশাপাশি এক্সকাভেটরের ব্যাটারিও জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব যানবাহন ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি পরিবহন করা হচ্ছিল, যা স্থানীয় পরিবেশ ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আড়ংশাইল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে অভিযানের সময় মূল হোতা বা পুকুর মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল হাসান জানান, অবৈধ মাটি কাটার কারণে এলাকার সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে স্থানীয় রাস্তা ভেঙে পড়ছে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া যায়।
শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে শুক্রবার দুপুরে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের অভিযান আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, শেরপুরের এই অভিযান শুধু তিনজনের শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অবৈধ মাটি ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামো রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।